আমরা সাধারণত বুঝি যে, জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করবো মানে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে প্রদান করব। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার মানে হলো আপনাকে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করতে হবে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ফাঁকা সনদপত্র পেতাম। তারপরে আমরা সেখান তথ্য লিপিবদ্ধ করে চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করে সেই জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতাম। কিন্তু এখন আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হোক অথবা তথ্য সংশোধন করতে হয় অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। হাতে লিখে জন্ম নিবন্ধন এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড এখন আর হচ্ছে না। আপনি যদি কোনো শিশুর জন্য অথবা যেকোন বয়সী মানুষের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। তাই আজকে আমাদের ওয়েবসাইটের আলোচ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কিভাবে করতে হয়। তাছাড়া জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে আবেদন করার পর পরবর্তীতে কি কি করনীয় রয়েছে তা জানতে এই পোস্ট আপনারা অবশ্যই পড়বেন। তবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার পূর্বে ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে আপনাদের কিছু কাগজপত্র আগে থেকেই জোগাড় করে রাখতে হবে।2000 সালের পরে জন্মগ্রহণকারী শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হলে তার টিকা কার্ড অথবা স্বাস্থ্যকর্মী থেকে যে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করা হয়েছে সেটি সংগ্রহ করতে হবে। সেই শিশুর অভিভাবকের নিজস্ব নামে যে জমিতে বসবাস করছে সেই জমির কর পরিশোধ অথবা খাজনা পরিশোধ করার রশিদ প্রদর্শন করতে হবে।তাই উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র আগে থেকে জোগাড় করুন এবং পরবর্তীতে আপনারা নিচের নিয়ম অনুসরন করে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করুন।তবে কেউ যদি 2000 সালের আগে জন্মগ্রহণ করে তাহলে তার উপরে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং তাকে অবশ্যই তার পিতামাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ব্যবহার করতে হবে। তাই জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইন করার জন্য আপনারা এমন একটি ওয়েব সাইটে যাবেন যেখানে থেকে প্রথমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট দিয়ে আপনারা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগাযোগ করবেন। তাহলে তারা কিছু প্রসেস অবলম্বন করে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ এর হার্ডকপি আপনাকে কিছু দিনের ভেতরেই প্রদান করবে। তবে অনলাইনে আবেদন করার পর জন্ম নিবন্ধন সনদের এই আবেদন পত্র 15 দিনের ভেতরেই স্থানীয় সরকার বিভাগ বা নিবন্ধকের কার্যালয় জমা দিন। উপরে উল্লেখিত দিনের পরে যদি অন্য কোন দিন অতিক্রম করেন তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের যে আবেদনপত্র প্রিন্ট দিয়ে নিয়েছেন বা আবেদন করেছেন তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন আপনি চাইলে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন দিয়ে করতে পারেন অথবা কম্পিউটার দিয়ে করতে পারেন। তবে সবচাইতে সুবিধা হবে কম্পিউটার দিয়ে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করা। যদিও আমরা এখানে অনলাইনে কিভাবে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে তার সম্পর্কে সব লাইন বিস্তারিত বুঝিয়ে দেবো তারপরেও অনেকে আছেন যারা কম্পিউটার অপারেটরের সহায়তা গ্রহণ করে এই জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন